বরিশালে এক রাতে বিয়ে বাড়িসহ ৪ প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি

News News

Desk

প্রকাশিত: ৪:৪৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

অনলাইন ডেস্ক : বরিশালের বাবুগঞ্জের একটি বিয়ে বাড়ি ও উজিরপুরের শিকারপুর বন্দরে চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে পৃথক দুই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রোকন মৃধা জানান, ভূতেরদিয়া গ্রামের মজিবর খানের বাড়িতে মাঝরাতে ডাকাত দল হানা দেয়। আর মজিবর খানের ছেলে মালয়শিয়া প্রবাসী রাসেল খানের বৌ-ভাতের অনুষ্ঠান রোববার (৩ ডিসেম্বর)।

তিনি জানান, ডাকাত দল আগ্নেয় ও ধারালো অস্ত্রের মুখে বিয়ে বাড়ীর সকলকে জিম্মি করে নগদ ৫ লাখ টাকাসহ বিদেশ থেকে নিয়ে আসা এবং নববধূর পিতার দেওয়া সকল গহনা এবং তার বাড়িতে আসা সকল অতিথিদের ১০/১২ স্বর্নালংকার ও মুল্যবান ৭টি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে গেছে।

রোকন মৃধা বলেন, উজিরপুরের শিকারপুর বন্দরে নাকি এর আগে ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ডাকাতদল সেখানে ডাকাতির পর স্পিডবোট নিয়ে পূর্ব ভুতেরদিয়া গ্রামের মজিবর খানের বাড়িতে হানা দেয়।

তবে কৌশলে মজিবর খান বেরিয়ে প্রতিবেশি ও পাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে মসজিদের মাইক দিয়ে ডাকাত প্রতিরোধের আহ্বান করা হয়। তখন ডাকাতরা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে গেছে বলে ইউপি সদস্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর বন্দর বণিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল মাহমুদ বাচ্চু জানান, একটি স্পিডবোট ও ট্রলার নিয়ে ৩০/৩৫ জনের একটি ডাকাত দল রাত আড়াইটার দিকে বন্দরে হানা দেয়। বিভিন্ন আগ্নেয় ও ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত দল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে নিরাপত্তা প্রহরী ও পথচারী অন্তত ৩০ জনকে বন্দরে বেঁধে রাখে।

তারপর অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে তালা কেটে ডাকাতরা ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, কনিকা, রিয়া ও আহম্মেদ জুয়েলার্সে প্রবেশ করে মালামাল এবং স্বর্নালংকার লুট করেছে।

পরে বন্দরের রুপালী ব্যাংকের শাখায় হানা দেয়। তখন ব্যাংকের মধ্যে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী মিরাজ ডাক চিৎকার দিলে বাজারের আশে-পাশের লোকজন এসে পড়লে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

বাচ্চু জানান, এ ঘটনায় ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনাকারী আব্দুল হালিম বাদী হয়ে মামলা করবেন। ডাকাতরা কনিকা জুয়েলার্স থেকে ২/৩ ভরি স্বর্নালংকার ও নগদ দেড় লাখ টাকা, রিয়া জুয়েলার্স থেকে দেড় থেকে দুই ভরি ওজনের স্বর্নালংকার ও ১২ ভরি রুপার অলংকার ও আহম্মেদ জুয়েলার্স থেকে এক ভরির মতো স্বর্নালংকার, ৮০ ভরি রুপার তৈরি অলংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করেছে।

উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, প্রহরীদের বেঁধে চোর চুরি করেছে। মোট ২/৩ ভরি স্বর্নালংকার চুরি করেছে।

যদিও ওসির এ দাবি বন্দরের ব্যবসায়ীরা অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি ওসি ডাকাতির বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

এদিকে বরিশাল পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি বাবুগঞ্জে গিয়েছেন। আর উজিরপুরেও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাঠানো হয়েছে। তারা আসার পর বলতে পারবো সঠিক কি ঘটেছে। তবে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।

সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম