বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াতের ওপর বিএনপির হামলার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলন

News News

Desk

প্রকাশিত: ৬:৩১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২৬

মাসুম বিল্লাহ বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি  : পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির এক পরাজিত প্রার্থীর অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াত। আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে তিনটায় উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির উপজেলা সেক্রেটারি মো. খালিদুর রহমান। এ সময় পটুয়াখালী জেলা সাবেক শিবির সভাপতি মাহফুজুর রহমান, বাউফল পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা সেলিমুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাস্টার রেদওয়ান উল্লাহ, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাউফল পাবলিক মাঠে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লের আয়োজন ছিল। অনুষ্ঠানে মাননীয় সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের প্রতিনিধি এবং উপজেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ে স্ব-স্ব আসনে উপস্থিত হন।

জামায়াতের অভিযোগ, সকাল আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটের দিকে বিএনপির পরাজিত সংসদ সদস্য প্রার্থী শহিদুল আলম তালুকদার তার সমর্থকদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। এ সময় তার অনুসারী ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা দলীয় স্লোগান দিতে দিতে আসনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং জামায়াত নেতাদের আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতা জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালাগালিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন বলে দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে কালাইয়া ইউনিয়নের দায়িত্বশীল ও জামায়াতের রোকন অহিদুজ্জামান মারধরের শিকার হন বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এই হামলার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। বক্তারা দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থী তার সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা না রাখায় এ ঘটনার পেছনে তার নীরব সমর্থন ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন এবং হামলাকারীদের নিবৃত করতে বেগ পেতে হয় বলে জানান তারা। হামলাকারীদের কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বাউফলের জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের প্রতিনিধিদের ওপর এ ধরনের হামলা অনভিপ্রেত এবং স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক। তারা দাবি করেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে জনগণ তা প্রতিহত করবে।

এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 


প্রকাশক : শারমিন সুলতানা
সম্পাদক : মো:সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়
সহ সম্পাদক : মো:শুভ হাওলাদার।
প্রধান উপদেষ্টা : মো: মকবুল হোসেন
যুগ্ন উপদেষ্টা : ডা. রিয়াদুল ইসলাম খান

 

বরিশাল ঠিকানা::
বিবির পুকুর পাড়
হাবিব ভবন, ৫ম তলা

ঢাকা ঠিকানা::
উওরা ১২ নং সেক্টর ৩ নং রোড