বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
EN

সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে রূপসা

Reporter Name / ২৫ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তথ্যভিত্তিক, নিরাপদ ও সমঅধিকারভিত্তিক নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবিতে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা রূপসা।

আজ বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নগরীর সিএন্ডবি রোডস্থ সেইন্ট বাংলাদেশ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে রূপসার কমিউনিকেশন অফিসার রবিউল শিকদারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ সাধারণভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট ও গণভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সক্ষম হলেও তথ্যপ্রাপ্তি, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং নিরাপদ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

রবিউল শিকদার জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ইউরোপীয়ান পাটনারশীপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি)-এর সহযোগিতায় পরিচালিত “সিভিক রাইটস অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশন অবজারভেশন” উদ্যোগের আওতায় দেশের ২৫টি সংসদীয় আসনের ৫০৯টি ভোটকেন্দ্রে ২০০ জন প্রশিক্ষিত নাগরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়। পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে প্রাক-নির্বাচন, নির্বাচন দিবস ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়।

রূপসার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সময়মতো খোলা হয়েছে এবং ভোটাররা বড় ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই ভোট দিতে পেরেছেন। তবে প্রশাসনিকভাবে নির্বাচন সুশৃঙ্খল হলেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য প্রকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করা হয়।

তিনি আরও বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানোর পর গণভোট সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এটি ভোটার শিক্ষা ও নাগরিক সচেতনতার ঘাটতির প্রতিফলন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২৯৯টি আসনের মধ্যে মাত্র ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন এবং নির্বাচিত হন মাত্র ৪ জন। নির্বাচিত চারজনই একই রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিলেন। এছাড়া ৭৯ জন সংখ্যালঘু প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ জন নারী ছিলেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে সংখ্যালঘু নারীদের সীমিত অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরে।

রূপসা দাবি করে, সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনগত ও নীতিগত কাঠামোর অভাব সমান রাজনৈতিক অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে হয়রানি, চাপ প্রয়োগ কিংবা ভোটার চলাচলে বাধার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের কিছু এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী প্রতিশোধের আশঙ্কায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রকাশ্যে অংশ নিতে অনীহা দেখা গেছে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতি সংখ্যালঘুদের তথ্যভিত্তিক, নিরাপদ ও সমঅধিকারভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় রূপসা কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে বহু-ভাষাভিত্তিক নাগরিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু, সংখ্যালঘু ভাষায় নির্বাচনী উপকরণ সরবরাহ, মোবাইল ভোটার নিবন্ধন সেবা সম্প্রসারণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চা বাগান এলাকায় ভোটকেন্দ্রের প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি, ভোটার সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং সংখ্যালঘু নারী ও দলিত সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের মনোনয়ন বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বেচ্ছা অঙ্গীকার নিশ্চিত করা।

অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বাংলাদেশের সমান নাগরিক অধিকার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর